বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

"বিয়ে বাড়ি"ফয়সাল আহম্মেদ রনি














"বিয়ে বাড়ি"


আম্মুর সাথে বিয়ের দাওয়াত খেতে কম যাওয়া হয়। আম্মু কোনো কাজে আটকে থাকেন নাহয় আমি নিজেই ব্যস্ত থাকি। তবে আম্মুর সাথে যতবারই বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছি ততবারই অনেক মজা করেছি। মনে রাখার মতোই ছিল প্রতেকটা বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে আজকের ঘটনাটা কিছুটা ব্যতিক্রম।

কয়েক মাস আগের কোনো এক রাতে আমি হাসপাতাল থেকে ডিউটি শেষ করে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে আম্মুর পাশে বসলাম।
প্রতিদিনই আম্মুর সাথে বসে আমার মনের রাজ্যের সব সুবিধা-অসুবিধা গুলো তুলে ধরি। আর আম্মু আমার মনোযোগ সহকারে শুনেন তারপর কিছু একটা মন্তব্য করে। একদিন কথা বলতে বলতে হঠাৎ আম্মু বলে উঠলেন আগামী বুধবার আম্মুর ছোটবেলার এক বান্ধবীর মেয়ের বিয়ে। আমার ব্যস্ততা না থাকলে আম্মু আমাকে নিয়েই বিয়ে বাড়িতে যেতে চান। আমিও আমার ডিউটি রোষ্টারে চোখ বুলিয়ে দেখলাম ঐ দিনটা তে ফ্রি আছি। তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিলাম,
আম্মু আমরা তাহলে বুধবার বিয়েতে যাচ্ছি। মনে মনে বেশ আনন্দ লাগলো, কেননা অনেকদিন পর আম্মুকে নিয়ে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাব। অনেক মজা ও হবে। যদিও ছোট বেলার মত খেতে বসলে বলতে পারবো না চাচ্চু আমাকে আর একটু দধি দাও। বিয়ে বাড়ির দধি আমার খুব পছন্দ।

দেখতে দেখতে বুধবার চলে এলো। আমরাও দুপুরের মধ্যেই বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে গেছি। আম্মুর বান্ধবী এবং পরিচিতদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাদের সাথে পরিচয় হয়ে আমার বেশ ভালো লাগলো। কেননা নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে আমার বেশ ভালোই লাগে। নতুনদের সাথে মিশলে নতুন নতুন বিভিন্ন ধরনের গল্প, কবিতা, ছড়া শোনার সৌভাগ্য হয় আমার। তাছাড়া দল বেঁধে একসাথে গল্প করার মজাই আলাদা।

যাইহোক বিয়ে বাড়িতে আসছি বউটা দেখে আসি। বিয়ে বাড়িতে বউ না দেখলে পরক্ষনেই কেমন একটা অাফসোস লাগে।

বউ দেখতে গিয়েই বড়সড় এক ধাক্কা খেলাম, কেননা মেয়েটা ছিল অনেক সুন্দরী। আজকাল বিয়েতে বউকে যেভাবে পার্লার থেকে ময়দা মাখিয়ে নিয়ে কিন্তু এই মেয়েটা বরাবরই ঠিক তার উল্টো। সাধারণ সাজে মেয়েটা সত্যিই অসাধারণ। আমি মুগ্ধ হয়ে মেয়েটিকে দেখতে দেখতে ধ্যানে পরে গেলাম। এমন সময় আম্মু আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে আসলেন খাওয়ার জন্য।

খেতে বসে আম্মু জিজ্ঞেস করলো কিরে খাবার কেমন হয়েছে?
আমি স্বভাবত ইচ্ছে করেই বিয়ে বাড়ির দোষ দিয়ে বললাম সবসময় উল্টো টা বলতাম- দধি টা আরেকটু ঠান্ডা হলে ভালো হতো, কেননা দধি আমার খুবই পছন্দের একটা খাবার। অবশ্য সেটা আগেও বলেছি।

আম্মু আমাকে অবাক করে খাবার খাওয়া থামিয়ে দিয়ে বললেন 'একটা কথা বলব? '
হুম বলে ফেলো।
আজ যে মেয়েটির বিয়ে, ওর বিয়েটা তোর সাথে হলেও হতে পারতো। মেয়ে পক্ষ খুব বলেছিল তোর কথা। কিন্তু আমি তোর কথা ভেবে তা হতে দেইনি। মাএ তো ডাক্তারি পাস করলি, এখন বিয়ে দেই কি করে?

আম্মুর কথা শেষ হলো, আর আমার চারদিক অন্ধকার হয়ে আসলো। খুব মনে পড়ছে লাল শাড়ি পরা অন্যের বউ সেজে থাকা মেয়েটির কথা। তখন আফসোস করে মনে মনে বলতে লাগলাম- "কোনো কিছু পেয়ে হারানো সত্যিই বেদনাময়"।

আম্মুর কথা শুনে আমার বদহজম হয়েছে, তাই আর খাবার খাওয়ার মতো দ্বিতীয়বার ইচ্ছে জাগলো না।

তারপর থেকে আম্মুকে নিয়ে কোনো বিয়েতে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার আজ অবধি হয়ে উঠে নি।


লেখকঃ ফয়সাল আহম্মেদ রনি
বনানী, ঢাকা-১২১২
মোবাইলঃ ০১৫৫৮-০৩৪৯৮১
০১৮৪৬৪২১৬৮৯
ই-মেইলঃ- dr.roni55@gmail.com






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন