“সংক্ষিপ্ত পরিচিতি”
নাম ঃ শাহজাহান সিরাজ শাহীন
পিতাঃ খায়রুল ইসলাম, মাতাঃ শাহাজাদী বেগম
জন্ম স্থান ঃ রামদাস ধনিরাম (উলিপুর পৌরসভা),
উপজেলাঃ উলিপুর, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।
জন্ম তারিখ ঃ ১০ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮খ্রি.
পেশা ঃ ব্যবসায়ি
লেখাপড়া ঃ প্রাথমিক শিক্ষা ঃ গুনাইগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
মাধ্যমিক শিক্ষা ঃ গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ঃ মেধাবিকাশ টেকনিক্যাল এন্ড বি,এম কলেজ, জুম্মাহাট, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
শখ ঃ অবসর সময় ফেসবুক, গান শোনা, বইপড়া ও লেখালেখি করা।
বর্ণনা ঃ শৈশব থেকে লেখালেখি শুরু করে। কবিতা, গান, ছড়া, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লেখা।
অংশগ্রহণ ঃ ছোট নদী, স্বপ্নভূমি, দৈনিক সকালের কাগজ, বাংলা কবিতার আসর (শাহজাহান সিরাজ নামে),
নবগঠিত ‘উলিপুর সাহিত্য পরিষদে’ কবিতার আসরে অংশগ্রহণ করেন।
ইচ্ছা ঃ তাঁর অপ্রকাশিত কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ, গান ও উপন্যাস প্রকাশ করা ও সারাজীবন সৃষ্টিশীল
কাজের সাথে লেগে থেকে পরলোগমন করা।
ই-মেইল ঠিকানা ঃ ংযধযলধযধহঁষরঢ়ঁৎ৮৮@মসধরষ.পড়স, ঋধপবনড়ড়শ : শযধষরফংরৎধল৩৭০
মোবাইল ঃ ০১৭৮১০২১৯৩৩, ০১৮৩৫০৩১৮৮০।
-০১-
স্মরনীয় যারা
যুদ্ধাবেশে আছি বলে-
যুদ্ধক্ষেত্র পরিবর্তন করে,
প্রেরনার ইতিহাসের নেশায়
চেতনার বাজারে বিনিয়োগ করা।
স্বেচ্ছাবস্থা হতে-
দেশদ্রোহী জঘন্য কীটরে,
অন্তঃস্বত্ত্বারে নিঃচিহ্ন করে;
যৌবনাশক্তিকে তপ্ত জলে বাষ্প করে,
নীলাকাশের মেঘের ভেলায় পূর্ণজন্মে গড়ি আগামী প্রজন্ম..।
বীরত্ব আছে বলেই-
পেয়েছি রক্তাক্ত লাশের গন্ধ,
অমোড়া দেহাবসান দাপন করেছি ‘গণকবরে’।
জ্যান্ত রেখেছি শুভাকাঙ্খীর কাতারে,
গর্জে উঠেছে- ‘পবিত্র আমিন ধ্বনি’।
অশ্রুসিক্ত নয়ন মুছে-
সাত্ত্বনা পেয়েছি; আমরা বীরের জাতি, স্বাধীনতা এনেছি...।
-০২-
রক্তদাতা
অসুস্থ মা আজও জীবিত, রক্তদাতার দ্বারে একফোঁটা রক্তের দাম দিতে পারিনি;
শত শহীদের রক্তের মূল্য কেমনে শু’ধব।
তব শ্রদ্ধায় মাথা নত করি, মহানুভবতার মূল্য বুঝে।
প্রতিটি ক্ষণ কেটেছিল অসহ্য যন্ত্রনায়, নাওয়া-খাওয়া ভূলে,
অসমাপ্ত পরিধি ডিঙ্গিয়ে পরিত্রাণের আশায় রোগমুক্তির হাতসানিতে,
শুধু ছুটে চলেছি মানবতার দ্বারে দ্বারে....।
পরিহাসে কাল নাগিনী, ছোবল মেরেছে অভিশপ্ত দেহে,
এ নাকি ‘পাপের ফসল আঘাত করেছে জন্মদাত্রির দেহে’।
কখনো ভেবেছি নিষ্পাপ শিশু পৃথিবীর আলো না দেখেই জন্ম,
মাতৃকোল হারা দেহাবসনে- তাদের অভিশাপ কী মাতা-পিতা?
নাকি, অজন্মার কালোছায়ে বিভোর, ঘুটঘুটে রাতের সমাজ-সংসারের কালোমায়া-
পথভোলা বিপদগ্রস্ত নাবিকের পথচলা..।
কখনো ভেবেছি- শত শত অসুস্থ রুগ্নদেহ পড়ে হাসপাতাল নাম বিছানায়,
প্রতিটি জীবন কী অভিশপ্ত, না-কি পরীক্ষার রুমের ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে যাওয়া সময়;
ফলাফলের ভীতিতে, হেদায়াতের করুণ চাপে- ক্ষত যন্ত্রনার কারাগারে শায়েস্তা হওয়া..।
-০৩-
হারিয়ে যাই
হারিয়ে যাই- কোন এক অজানা পথ ধরে,
হারিয়ে গেছি- হাটতে শিখে, পথের শুরুটা সৌখিনতার রসে-
অথবা পিপীলিকার কামড়ে নিঃশেষ হতে দেখে;
পিছু পথ হঠতে বাধা শত শত সম্মুখে আহবান-
‘পিছু ফেরার সুযোগ কোথায়’।
হারিয়ে যাই-স্বপ্ন ডানায় ভর করে উড়তে শিখে,
যে ডানা ভেঙ্গে খড়কুঠোর মতো দরিযায় ঝাপ মারি,
ভেসে চলি, অনাদরে-শেষ অবলম্বন হয়ে বাঁচতে শিখে...।
আপন স্বত্ত্বাকে বিলিয়ে দিয়ে, কটোক্তির ছোবলে রোগাক্ত দেহে-
কলঙ্ক মোচনের তিক্ততা পেয়ে, অট্টহাসিতে ধিক্কার পুষে...।
-০৪-
“ভূতের মেয়ে”
ভূতের বাড়ির ভূতের মেয়ে, পাতবে সম্বন্ধ কিবা দিয়ে
চলে যদি দর কষে।
পড়শী জনে কিবা শোনায়, বিয়ে বুঝি যায় ভেঙ্গে যায়
প্রীতিবর- ‘চরকি দোলায় বসে’।
চাপার জোরে যত বাপা, ভীতির ভাঁড়ে কাঁপা কাঁপা,
এই করো না সেই করো না।
ছিকে যদি যায়রে ছিড়ে, বাংকি বহে লাভ কী ফিরে,
মিছে স’য়ে যন্ত্রনা।
ভূতের নানির কানাকানি, যার মেয়ে তার জানাজানি,
মেয়ে গো- ঘরের বাইরে যেও না।
যারা ভূতে ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়, সেও যদি নিজেই পালায়;
তব মিছে বিয়ে- ‘সংসার গড়ার বাসনা’।
ঘটকের খেয়ায় গড়াগড়ি মায়া, আশ্রয় গড়ি কোনবা ছায়া,
অজানা কোন দেশে।
বোবার ভাষায় গান ধরালে, পরের তরে কাঁদতে শেখালে,
কী বা মধুর রসে।
কত অনাদর বিষদাহ ঘোর, কাটির জোর আর খুঁটির জোর
গড়ে করুণ বসতি।
রুদ্ধ দিশারী বন্ধ দুয়ারি, বৃত্তচক্রের শূন্য বাহারি
পূর্ণ্য ভরতি।
বাইরে সুশ্রী সদা ফাটফিট, গহীনে জঘন্য অরন্যের নগন্য কীট,
আর কত প্রজাপতি।
বসত করে ভিন্ন গুণে, নাক ছিটকায় ঘিনঘৃণে
নষ্ট মতের ভিন্ন প্রজাতি।
এমন আর্বজনা হলে গো তুমি, মিথ্যে মরিচিকায় বসতভূমি
ডাস্টবিনে জায়গা হয় না।
অনাদর শুধু বেড়েই চলে, বহি তব নদীর জলে,
শেষবেলা, সঙ্গীহারা যন্ত্রনা।
-০৫-
‘দোহাই’
আলসয়িা মানষরে (মানুষরে) আগ বশে,ি
কুরয়িা (অর্কম্মা) মানষরে ভোক (ক্ষুধা) বশেি
ফল খলেে তো ফলরে বচেনো করলে শষে ।
হবে ছাওয়া (সন্তান) ডাকবে বাপ (বাবা)
তার নাম রাখবে কালাচাঁদ
পড়শীর জয়ধ্বন-ি গাইছ, গাও বশে।
হাগড়ি (পায়ূবধি) পলেে ছল,
হাগয়িা করছে সারা মাচার তল।
ভাবী বল-ে জানো না হাতী করল,ে
হাতীর চারা আগে আনতে হব’ে।
মছিে কনে গল্পরে জোড়া, যা-তা কনে কব।ে
দাদীর মুখে শোনা কথা, তোমারে বলে যাই।
নীতি কথার খোরাক মটে,ে মাঝরে ঠ্যাং ধরি পালাই।
শোন- ‘মনেি গাইরে মনেি গাই, দুধ দ্যাউস ন্যা ক্যা?
আকোয়ালে ঘাস খোয়ায় ন্যা, দুধ দ্যাং মুই ক্যা।
আকোয়াল রে আকোয়াল, ঘাস খোয়াস ন্যা ক্যা?
কলা য্যা থোরায় ন্যা, ঘাস খোয়াং মুই ক্যা?
কলা রে কলা, থোরাইস ন্যা ক্যা?
দ্যাওয়া য্যা চলেকে ন্যা, থোরাং মুই ক্যা।
দ্যাওয়া রে দ্যাওয়া, চলিকসি ন্যা ক্যা?
ব্যাংগে য্যা টোর টোরায় ন্যা, চলেকোং মুই ক্যা?
ব্যাং রে ব্যাং, টোর টোরাইস ন্যা ক্যা?
সাপে য্যা গলিি খ্যাব,ে টোর টোরাং মুই ক্যা?
/প্রেমের কবিতা/
-০১-
“কতটা”
কতটা শোক পেলে মানুষ-
স্মৃতির কথাগুলো নেড়েচেরে বলে,
নয়ন জলে বুক ভেজায়।
অন্ধকার একাকী গৃহরে সঙ্গী করে,
নিজেরে সাত্ত্বনা দিয়ে চলে,
নিঃস্তব্দ ভাবনার মেঘ হাবুডুবু খায়।
কতটা যাতনার যাতাকলে পিষলে মানুষ,
ক্ষতঘাতে ছটফটে মরে, যন্ত্রনায়দাহে কাতরায়।
দৈহিকশক্তি নিস্ফল হয়ে, বেদনার বিষফলে কন্ঠদ্বারে,
আবেগে অনুভূতি সঞ্চরায়।
কতটা পিছু হঠলে মানুষ,
অস্তিত্বেরে বিলিয়ে দিয়ে, নিরাশার দাহে পা বাড়ায়।
পদাঘাতে সংকীর্ণ ভুবন, কারাগারে করে আত্মগোপন-
দেহতন্ত্র জপে নিরুপায়।
কতটা দৌড়ক্ষম আছে মানুষের,
সু-কৌশলের পদাচারনায়, পরিকল্পনার মাপকাটি নিয়ে
সচেতনতার গম্ভীরতায়।
বড়াই শুধু পারি-পারার, মুখের ভিতর গড়ি-গড়ার
সুরক্ষার বাস্তবতায়।
কতটা আয়ূ পেয়েছে মানুষ
হাওয়ার চরে ভাসি ভেলা
চলছ কোথায় অচীনপুরে-
এ কথা গাটের একেক বেলা।
মজার জালে ফান্দে সদা, কী ঘটে কখন কেবা জানে
অদৃশ্যের তরীতে আত্মভোলা।
-০২-
দেখেছি তোমায়
দেখেছি তোমায়- ভালবাস আমায় কেমন করে,
ডুবেছি তোমার প্রেম গভীরতার শতভাগ জলে।
ভালোবাস তুমি কেমন করে।
দেখেছি তোমায়- লাইনচ্যূত পথে রেলের গাড়ি,
ধ্বংস উনুনে জ্বলে কেমনে, পরে ঠেলায় কাষ্ঠফাড়ি।
দেখেছি তোমায়-
বাঁচা মরা সমান করে বাঁচতে শেখা,
কাপুরুষ নই, তাই ভেবে ভেবে,
আত্মক্রন্দন আধারে জলাঞ্জলি দিয়ে;
লোকসমাজে হাসতে দেখা।
দেখেছি তোমায়- অনেক ভালোরে এড়িয়ে যেতে,
মধ্যবিত্ত বলে বাধার-প্রাচীরে
কত কিছুতেই মাথা নুয়াতে।
-০৩-
স্বেচ্ছাকবর
দীর্ঘশ্বাস বুকে চাপা কান্না,
হুংকার ছাড়ে শত বায়না,
চালায়- মরণ মরণ খেলা।
ধুকে ধুকে মরা, পাঁপড়ি ঝরা
মায়া কান্নায় অন্তর জ্বালা।
কাষ্ঠে ভাসা ভেলা..........
দেহাবসান হলে পরে বাঁচি,
শত মরনের জ্বালা।
নামেমাত্র রক্তের বাঁধন,
শুধুই বাড়ায় হৃদয় যতন
কথা ছুরিতে অস্ত্র-পাচার;
হলাম আত্মহারা।
রসে হাড়িতে বিষের পেয়ালা,
নাড়ি-চারি বাড়ায় শুধুই হেলা....
সংকীর্ণতার বিষম ধারা।
পাথর ঘষে শিমরে বাড়ী,
যত না সাজাই আপন করি,
পাথরই রয়ে যায়।
কোন কোলেতে কার বা লালন,
কেমনবীজে কেমন ফলন,
মরি গো যাতনায়।
দগ্ধ-প্রেমের ছটফটানি,
চালাও বাদর নাচন পালা,
দেহাবসান হলে পরে বাঁচি...
শত মরণের জ্বালা।
-০৪-
তুমি তো সেই
তুমি তো সেই,
যাকে সাত্ত্বনার দেই মানসিক যন্ত্রনা,
লাঘবের তরে; শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে-
মনোপিঞ্জনে আরতি করি,
জীবনের অভিধান ভাবি।
তুমি তো সেই,
যাকে লালন করেছি ত্রিশ বছর ধরে,
লালসের খোসলে বাঁধন মতির ছল;
কার্যসিদ্ধির পরশে গোলক ধাঁ-ধাঁ বিস্তার-
ভীতিতে কর্মগুনের সঞ্চারন জাগাও;
এমনি তোমার পদতলের পাদচিহ্ন....।
তুমি তো সেই-
যাকে দেখে ভালোবাসতেও শিখিনি,
প্রেম-ময়তা কেমন তা শুয়েও দেখিনি;
শুধু যন্ত্রনার আড়ালে গাঁ ঢেকেছি।
আধারের বালিম চাপায় কাঁদতে শিখেছি..।
তুমি তো সেই-
যে কিনা ঝড়ো রাতের বজ্রপাত,
রিমঝিম শব্দগুনে গৃহের এককোণে বসে,
কাতরানোর ভোগ- হয়তবা; কালবৈশাখীর ধ্বংসলীলায়-
গর্জে উঠে সর্বনাসা অভিশাপ.. ।
তুমি তো সেই-
যে কিনা শোধরায়নি স্বভাবচিত্ত,
সর্পবৃত্তে শুধু খোলস বদল-
বিষদাঁতে বিষফোঁড়ন, এখনো জীবন্ত...।
-০৫-
‘নরিূপায় কুয়াশায়’
হঠাৎ মাথা ঘুরে আঁখরি দু’গৃহে দুয়ার মলে,ে
উত্তাল হাওয়া বরেয়িে পড়ে দূবলতার কালোমঘে;ে
ভাবরে সন্যাসী ভাবয়িে তোলে কী দখেলাম !
ঔই দূর নীলমিায়- পাক মারে শকুনরে দল,
শকিাররে সন্ধানে হংিস্র মানব, বধিবে নরিহ প্রাণ।ে
হয়তবা ঘটইে যাব-ে ‘চোরে চুরী কর,ে সাধুর বন্ধদিশা’।
সইে বষিখকেো আঁখ-িযুগল, তীক্ষ্ম নজরে চাহ,ে
থমকে কলজিা ছাৎ করে উঠ,ে জটরে ধরা মাতৃ-বক্ষ পঞ্জির।ে
এইবুঝ,ি নাড়ি ছড়ো ধন, আপন দৃষ্টরি আড়ালে হারয়িে যাব,ে
নষ্ঠিুর হয়িার ছোবল-ে এতদনিে মায়া-মহব্বত ছন্নি কর;ে
ছোট্য গৃহরে মাটি চাপায়-ঘুময়িে যাবে পছিু ফরিে তাকার বাদ।ে
অনুভূতরি নঃিসঙ্গ বায়ূ আবার কড়া নাড়,ে
হঠাৎ চমকতি হই; এই বুঝ-ি চাহদিার যাতাকলে ক্ষুধা নবিারণরে আঘাত এলো,
অসহায় হলো শষে সম্বলটুকু হারয়ি।ে
তবুও কনে জান?ি
চাতক পাখরি মতো চয়েে থাকা।
হয়তবা এদকি-সদেকি লুকয়িে ফরো,
জীবন হারা প্রদীপরে মত হাত-পা নড়েে মৃত্যুকে আঙ্গগিন করা।
তবুও বোবার মুখে এক ছ’টা শব্দ এলো না,
নঃিশব্দ যন্ত্র-মানব বকিল হয়ে পড়ইে থাকল...।
কখনও বা নাটকরে মঞ্চে স্ব-প্রতীমা জাহরি করা,
আপনায় প্রতচ্ছিায়া দখে,ে
আপন ছলে আপনারে ধক্কিার দতিে শখো
হয়তবা এই আমি আমার মতো নই.....।
নাম ঃ শাহজাহান সিরাজ শাহীন
পিতাঃ খায়রুল ইসলাম, মাতাঃ শাহাজাদী বেগম
জন্ম স্থান ঃ রামদাস ধনিরাম (উলিপুর পৌরসভা),
উপজেলাঃ উলিপুর, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।
জন্ম তারিখ ঃ ১০ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮খ্রি.
পেশা ঃ ব্যবসায়ি
লেখাপড়া ঃ প্রাথমিক শিক্ষা ঃ গুনাইগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
মাধ্যমিক শিক্ষা ঃ গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ঃ মেধাবিকাশ টেকনিক্যাল এন্ড বি,এম কলেজ, জুম্মাহাট, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
শখ ঃ অবসর সময় ফেসবুক, গান শোনা, বইপড়া ও লেখালেখি করা।
বর্ণনা ঃ শৈশব থেকে লেখালেখি শুরু করে। কবিতা, গান, ছড়া, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লেখা।
অংশগ্রহণ ঃ ছোট নদী, স্বপ্নভূমি, দৈনিক সকালের কাগজ, বাংলা কবিতার আসর (শাহজাহান সিরাজ নামে),
নবগঠিত ‘উলিপুর সাহিত্য পরিষদে’ কবিতার আসরে অংশগ্রহণ করেন।
ইচ্ছা ঃ তাঁর অপ্রকাশিত কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ, গান ও উপন্যাস প্রকাশ করা ও সারাজীবন সৃষ্টিশীল
কাজের সাথে লেগে থেকে পরলোগমন করা।
ই-মেইল ঠিকানা ঃ ংযধযলধযধহঁষরঢ়ঁৎ৮৮@মসধরষ.পড়স, ঋধপবনড়ড়শ : শযধষরফংরৎধল৩৭০
মোবাইল ঃ ০১৭৮১০২১৯৩৩, ০১৮৩৫০৩১৮৮০।
-০১-
স্মরনীয় যারা
যুদ্ধাবেশে আছি বলে-
যুদ্ধক্ষেত্র পরিবর্তন করে,
প্রেরনার ইতিহাসের নেশায়
চেতনার বাজারে বিনিয়োগ করা।
স্বেচ্ছাবস্থা হতে-
দেশদ্রোহী জঘন্য কীটরে,
অন্তঃস্বত্ত্বারে নিঃচিহ্ন করে;
যৌবনাশক্তিকে তপ্ত জলে বাষ্প করে,
নীলাকাশের মেঘের ভেলায় পূর্ণজন্মে গড়ি আগামী প্রজন্ম..।
বীরত্ব আছে বলেই-
পেয়েছি রক্তাক্ত লাশের গন্ধ,
অমোড়া দেহাবসান দাপন করেছি ‘গণকবরে’।
জ্যান্ত রেখেছি শুভাকাঙ্খীর কাতারে,
গর্জে উঠেছে- ‘পবিত্র আমিন ধ্বনি’।
অশ্রুসিক্ত নয়ন মুছে-
সাত্ত্বনা পেয়েছি; আমরা বীরের জাতি, স্বাধীনতা এনেছি...।
-০২-
রক্তদাতা
অসুস্থ মা আজও জীবিত, রক্তদাতার দ্বারে একফোঁটা রক্তের দাম দিতে পারিনি;
শত শহীদের রক্তের মূল্য কেমনে শু’ধব।
তব শ্রদ্ধায় মাথা নত করি, মহানুভবতার মূল্য বুঝে।
প্রতিটি ক্ষণ কেটেছিল অসহ্য যন্ত্রনায়, নাওয়া-খাওয়া ভূলে,
অসমাপ্ত পরিধি ডিঙ্গিয়ে পরিত্রাণের আশায় রোগমুক্তির হাতসানিতে,
শুধু ছুটে চলেছি মানবতার দ্বারে দ্বারে....।
পরিহাসে কাল নাগিনী, ছোবল মেরেছে অভিশপ্ত দেহে,
এ নাকি ‘পাপের ফসল আঘাত করেছে জন্মদাত্রির দেহে’।
কখনো ভেবেছি নিষ্পাপ শিশু পৃথিবীর আলো না দেখেই জন্ম,
মাতৃকোল হারা দেহাবসনে- তাদের অভিশাপ কী মাতা-পিতা?
নাকি, অজন্মার কালোছায়ে বিভোর, ঘুটঘুটে রাতের সমাজ-সংসারের কালোমায়া-
পথভোলা বিপদগ্রস্ত নাবিকের পথচলা..।
কখনো ভেবেছি- শত শত অসুস্থ রুগ্নদেহ পড়ে হাসপাতাল নাম বিছানায়,
প্রতিটি জীবন কী অভিশপ্ত, না-কি পরীক্ষার রুমের ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে যাওয়া সময়;
ফলাফলের ভীতিতে, হেদায়াতের করুণ চাপে- ক্ষত যন্ত্রনার কারাগারে শায়েস্তা হওয়া..।
-০৩-
হারিয়ে যাই
হারিয়ে যাই- কোন এক অজানা পথ ধরে,
হারিয়ে গেছি- হাটতে শিখে, পথের শুরুটা সৌখিনতার রসে-
অথবা পিপীলিকার কামড়ে নিঃশেষ হতে দেখে;
পিছু পথ হঠতে বাধা শত শত সম্মুখে আহবান-
‘পিছু ফেরার সুযোগ কোথায়’।
হারিয়ে যাই-স্বপ্ন ডানায় ভর করে উড়তে শিখে,
যে ডানা ভেঙ্গে খড়কুঠোর মতো দরিযায় ঝাপ মারি,
ভেসে চলি, অনাদরে-শেষ অবলম্বন হয়ে বাঁচতে শিখে...।
আপন স্বত্ত্বাকে বিলিয়ে দিয়ে, কটোক্তির ছোবলে রোগাক্ত দেহে-
কলঙ্ক মোচনের তিক্ততা পেয়ে, অট্টহাসিতে ধিক্কার পুষে...।
-০৪-
“ভূতের মেয়ে”
ভূতের বাড়ির ভূতের মেয়ে, পাতবে সম্বন্ধ কিবা দিয়ে
চলে যদি দর কষে।
পড়শী জনে কিবা শোনায়, বিয়ে বুঝি যায় ভেঙ্গে যায়
প্রীতিবর- ‘চরকি দোলায় বসে’।
চাপার জোরে যত বাপা, ভীতির ভাঁড়ে কাঁপা কাঁপা,
এই করো না সেই করো না।
ছিকে যদি যায়রে ছিড়ে, বাংকি বহে লাভ কী ফিরে,
মিছে স’য়ে যন্ত্রনা।
ভূতের নানির কানাকানি, যার মেয়ে তার জানাজানি,
মেয়ে গো- ঘরের বাইরে যেও না।
যারা ভূতে ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়, সেও যদি নিজেই পালায়;
তব মিছে বিয়ে- ‘সংসার গড়ার বাসনা’।
ঘটকের খেয়ায় গড়াগড়ি মায়া, আশ্রয় গড়ি কোনবা ছায়া,
অজানা কোন দেশে।
বোবার ভাষায় গান ধরালে, পরের তরে কাঁদতে শেখালে,
কী বা মধুর রসে।
কত অনাদর বিষদাহ ঘোর, কাটির জোর আর খুঁটির জোর
গড়ে করুণ বসতি।
রুদ্ধ দিশারী বন্ধ দুয়ারি, বৃত্তচক্রের শূন্য বাহারি
পূর্ণ্য ভরতি।
বাইরে সুশ্রী সদা ফাটফিট, গহীনে জঘন্য অরন্যের নগন্য কীট,
আর কত প্রজাপতি।
বসত করে ভিন্ন গুণে, নাক ছিটকায় ঘিনঘৃণে
নষ্ট মতের ভিন্ন প্রজাতি।
এমন আর্বজনা হলে গো তুমি, মিথ্যে মরিচিকায় বসতভূমি
ডাস্টবিনে জায়গা হয় না।
অনাদর শুধু বেড়েই চলে, বহি তব নদীর জলে,
শেষবেলা, সঙ্গীহারা যন্ত্রনা।
-০৫-
‘দোহাই’
আলসয়িা মানষরে (মানুষরে) আগ বশে,ি
কুরয়িা (অর্কম্মা) মানষরে ভোক (ক্ষুধা) বশেি
ফল খলেে তো ফলরে বচেনো করলে শষে ।
হবে ছাওয়া (সন্তান) ডাকবে বাপ (বাবা)
তার নাম রাখবে কালাচাঁদ
পড়শীর জয়ধ্বন-ি গাইছ, গাও বশে।
হাগড়ি (পায়ূবধি) পলেে ছল,
হাগয়িা করছে সারা মাচার তল।
ভাবী বল-ে জানো না হাতী করল,ে
হাতীর চারা আগে আনতে হব’ে।
মছিে কনে গল্পরে জোড়া, যা-তা কনে কব।ে
দাদীর মুখে শোনা কথা, তোমারে বলে যাই।
নীতি কথার খোরাক মটে,ে মাঝরে ঠ্যাং ধরি পালাই।
শোন- ‘মনেি গাইরে মনেি গাই, দুধ দ্যাউস ন্যা ক্যা?
আকোয়ালে ঘাস খোয়ায় ন্যা, দুধ দ্যাং মুই ক্যা।
আকোয়াল রে আকোয়াল, ঘাস খোয়াস ন্যা ক্যা?
কলা য্যা থোরায় ন্যা, ঘাস খোয়াং মুই ক্যা?
কলা রে কলা, থোরাইস ন্যা ক্যা?
দ্যাওয়া য্যা চলেকে ন্যা, থোরাং মুই ক্যা।
দ্যাওয়া রে দ্যাওয়া, চলিকসি ন্যা ক্যা?
ব্যাংগে য্যা টোর টোরায় ন্যা, চলেকোং মুই ক্যা?
ব্যাং রে ব্যাং, টোর টোরাইস ন্যা ক্যা?
সাপে য্যা গলিি খ্যাব,ে টোর টোরাং মুই ক্যা?
/প্রেমের কবিতা/
-০১-
“কতটা”
কতটা শোক পেলে মানুষ-
স্মৃতির কথাগুলো নেড়েচেরে বলে,
নয়ন জলে বুক ভেজায়।
অন্ধকার একাকী গৃহরে সঙ্গী করে,
নিজেরে সাত্ত্বনা দিয়ে চলে,
নিঃস্তব্দ ভাবনার মেঘ হাবুডুবু খায়।
কতটা যাতনার যাতাকলে পিষলে মানুষ,
ক্ষতঘাতে ছটফটে মরে, যন্ত্রনায়দাহে কাতরায়।
দৈহিকশক্তি নিস্ফল হয়ে, বেদনার বিষফলে কন্ঠদ্বারে,
আবেগে অনুভূতি সঞ্চরায়।
কতটা পিছু হঠলে মানুষ,
অস্তিত্বেরে বিলিয়ে দিয়ে, নিরাশার দাহে পা বাড়ায়।
পদাঘাতে সংকীর্ণ ভুবন, কারাগারে করে আত্মগোপন-
দেহতন্ত্র জপে নিরুপায়।
কতটা দৌড়ক্ষম আছে মানুষের,
সু-কৌশলের পদাচারনায়, পরিকল্পনার মাপকাটি নিয়ে
সচেতনতার গম্ভীরতায়।
বড়াই শুধু পারি-পারার, মুখের ভিতর গড়ি-গড়ার
সুরক্ষার বাস্তবতায়।
কতটা আয়ূ পেয়েছে মানুষ
হাওয়ার চরে ভাসি ভেলা
চলছ কোথায় অচীনপুরে-
এ কথা গাটের একেক বেলা।
মজার জালে ফান্দে সদা, কী ঘটে কখন কেবা জানে
অদৃশ্যের তরীতে আত্মভোলা।
-০২-
দেখেছি তোমায়
দেখেছি তোমায়- ভালবাস আমায় কেমন করে,
ডুবেছি তোমার প্রেম গভীরতার শতভাগ জলে।
ভালোবাস তুমি কেমন করে।
দেখেছি তোমায়- লাইনচ্যূত পথে রেলের গাড়ি,
ধ্বংস উনুনে জ্বলে কেমনে, পরে ঠেলায় কাষ্ঠফাড়ি।
দেখেছি তোমায়-
বাঁচা মরা সমান করে বাঁচতে শেখা,
কাপুরুষ নই, তাই ভেবে ভেবে,
আত্মক্রন্দন আধারে জলাঞ্জলি দিয়ে;
লোকসমাজে হাসতে দেখা।
দেখেছি তোমায়- অনেক ভালোরে এড়িয়ে যেতে,
মধ্যবিত্ত বলে বাধার-প্রাচীরে
কত কিছুতেই মাথা নুয়াতে।
-০৩-
স্বেচ্ছাকবর
দীর্ঘশ্বাস বুকে চাপা কান্না,
হুংকার ছাড়ে শত বায়না,
চালায়- মরণ মরণ খেলা।
ধুকে ধুকে মরা, পাঁপড়ি ঝরা
মায়া কান্নায় অন্তর জ্বালা।
কাষ্ঠে ভাসা ভেলা..........
দেহাবসান হলে পরে বাঁচি,
শত মরনের জ্বালা।
নামেমাত্র রক্তের বাঁধন,
শুধুই বাড়ায় হৃদয় যতন
কথা ছুরিতে অস্ত্র-পাচার;
হলাম আত্মহারা।
রসে হাড়িতে বিষের পেয়ালা,
নাড়ি-চারি বাড়ায় শুধুই হেলা....
সংকীর্ণতার বিষম ধারা।
পাথর ঘষে শিমরে বাড়ী,
যত না সাজাই আপন করি,
পাথরই রয়ে যায়।
কোন কোলেতে কার বা লালন,
কেমনবীজে কেমন ফলন,
মরি গো যাতনায়।
দগ্ধ-প্রেমের ছটফটানি,
চালাও বাদর নাচন পালা,
দেহাবসান হলে পরে বাঁচি...
শত মরণের জ্বালা।
-০৪-
তুমি তো সেই
তুমি তো সেই,
যাকে সাত্ত্বনার দেই মানসিক যন্ত্রনা,
লাঘবের তরে; শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে-
মনোপিঞ্জনে আরতি করি,
জীবনের অভিধান ভাবি।
তুমি তো সেই,
যাকে লালন করেছি ত্রিশ বছর ধরে,
লালসের খোসলে বাঁধন মতির ছল;
কার্যসিদ্ধির পরশে গোলক ধাঁ-ধাঁ বিস্তার-
ভীতিতে কর্মগুনের সঞ্চারন জাগাও;
এমনি তোমার পদতলের পাদচিহ্ন....।
তুমি তো সেই-
যাকে দেখে ভালোবাসতেও শিখিনি,
প্রেম-ময়তা কেমন তা শুয়েও দেখিনি;
শুধু যন্ত্রনার আড়ালে গাঁ ঢেকেছি।
আধারের বালিম চাপায় কাঁদতে শিখেছি..।
তুমি তো সেই-
যে কিনা ঝড়ো রাতের বজ্রপাত,
রিমঝিম শব্দগুনে গৃহের এককোণে বসে,
কাতরানোর ভোগ- হয়তবা; কালবৈশাখীর ধ্বংসলীলায়-
গর্জে উঠে সর্বনাসা অভিশাপ.. ।
তুমি তো সেই-
যে কিনা শোধরায়নি স্বভাবচিত্ত,
সর্পবৃত্তে শুধু খোলস বদল-
বিষদাঁতে বিষফোঁড়ন, এখনো জীবন্ত...।
-০৫-
‘নরিূপায় কুয়াশায়’
হঠাৎ মাথা ঘুরে আঁখরি দু’গৃহে দুয়ার মলে,ে
উত্তাল হাওয়া বরেয়িে পড়ে দূবলতার কালোমঘে;ে
ভাবরে সন্যাসী ভাবয়িে তোলে কী দখেলাম !
ঔই দূর নীলমিায়- পাক মারে শকুনরে দল,
শকিাররে সন্ধানে হংিস্র মানব, বধিবে নরিহ প্রাণ।ে
হয়তবা ঘটইে যাব-ে ‘চোরে চুরী কর,ে সাধুর বন্ধদিশা’।
সইে বষিখকেো আঁখ-িযুগল, তীক্ষ্ম নজরে চাহ,ে
থমকে কলজিা ছাৎ করে উঠ,ে জটরে ধরা মাতৃ-বক্ষ পঞ্জির।ে
এইবুঝ,ি নাড়ি ছড়ো ধন, আপন দৃষ্টরি আড়ালে হারয়িে যাব,ে
নষ্ঠিুর হয়িার ছোবল-ে এতদনিে মায়া-মহব্বত ছন্নি কর;ে
ছোট্য গৃহরে মাটি চাপায়-ঘুময়িে যাবে পছিু ফরিে তাকার বাদ।ে
অনুভূতরি নঃিসঙ্গ বায়ূ আবার কড়া নাড়,ে
হঠাৎ চমকতি হই; এই বুঝ-ি চাহদিার যাতাকলে ক্ষুধা নবিারণরে আঘাত এলো,
অসহায় হলো শষে সম্বলটুকু হারয়ি।ে
তবুও কনে জান?ি
চাতক পাখরি মতো চয়েে থাকা।
হয়তবা এদকি-সদেকি লুকয়িে ফরো,
জীবন হারা প্রদীপরে মত হাত-পা নড়েে মৃত্যুকে আঙ্গগিন করা।
তবুও বোবার মুখে এক ছ’টা শব্দ এলো না,
নঃিশব্দ যন্ত্র-মানব বকিল হয়ে পড়ইে থাকল...।
কখনও বা নাটকরে মঞ্চে স্ব-প্রতীমা জাহরি করা,
আপনায় প্রতচ্ছিায়া দখে,ে
আপন ছলে আপনারে ধক্কিার দতিে শখো
হয়তবা এই আমি আমার মতো নই.....।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন