মায়াবী পাথর
==== আশেকা তৌহিদ সাথী
জিসান ঢাকা শহরের এক নামকরা স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র। সে ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাসসহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তার অসাধারণ সাফল্যে বাবা-মা খুব খুশি। কিন্তু জিসান মানসিকভাবে সবসময় অস্থির থাকত। তার শুধু ভাবনা কবে এ সোনার বাংলা খাঁটি সোনায় পরিণত হবে। এদেশ হতে কবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নিমর্ূূল হবে। কিভাবে মানুষের মধ্যে আবার ভালবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হবে। জিসান প্রকৃতির মধ্যে তার এ সমাধান খুঁজে বেড়ায়। একদিন এক পড়ন্ত বিকেলে জিসান কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। সে জানে না কোথায় গেলে তার সমাধান খুঁজে পাবে। তারপরও সে তার গতিবেগ থামিয়ে দেয়নি। সে অবিরাম চলতে থাকে অজানার পথে। এভাবে একটানা চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সে ক্লান্তিকে পরোয়া করেনি। শহরের পথ পেরিয়ে সে কখন যে গ্রামের পথে পা বাড়িয়েছে তা নিজেও জানে না। গ্রামের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ এক বনের ভিতর সে ঢুকে পড়ে। সে খুব ভয় পায়, না জানি কখন কোন বিপদ এসে পড়ে। আল্লাহ ও রাসূলের উপর ভরসা করে সে চলতে থাকে। হঠাৎ বনের মধ্যে গাছের ফোকর বেয়ে জোসনার আলো দেখতে পেয়ে সে বুঝতে পারে তখন অনেক রাত আলোর ছোঁয়ায় জিসান স্বস্তি ফিরে পায়। একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে জিসান মাটিতে এক চিরকুট দেখতে পায়। চিরকুট পড়ে দেরি না করে সামনে এগিয়ে গেল। তীরচিহ্ন দেখে সে বামে গেল। তখন সেখানে এক বটগাছের নিচে দেখতে পেল এক আশ্বর্য পাথর। পাথর থেকে নানা রঙের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। পাথরের সাথে পড়ে থাকা আরেকটি চিরকুটে লেখা ছিল এই পাথরের ছোঁয়ায় পৃথিবীর সকল অন্যায় তুমি দূর করতে পারবে। জিসান দেরি না করে পাথরটি নিয়ে ঢাকায় ফিলে এল। তারপর প্রথমে দেশ ও পরে পৃথিবী থেকে সকল অন্যায় সে দূর করলো। সকল মানুষের ভালবাসায় আজ সে মুগ্ধ। তার সোনার দেশ সত্যিকারের সোনায় পরিণত হল। এরপর মায়ের ডাকে জিসানের ঘুম ভেঙ্গে গেল। পরক্ষণেই বুঝতে পেরেছে জিসান এতক্ষণ স্বপ্নে ছিল। কিন্তু জিসান সেই পাথরের কথা ভুলেনি। সে পাথরটির নাম দেয় মায়াবী পাথর। যার মায়ার টানে জিসান আজো সেই পাথর খুঁজে বেড়ায় সকল অন্যায় দূর করতে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন