বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

লেখিকা সায়মা ইতি এর শেষ স্ট্যাটাস





















(( বি: দ্রব্যষ্ট কিছুদিনের জন্য সবার কাছ থেকে বিদায় নিবো তাই
একদিনে এতো গুলো পোষ্ট করলাম । )))
[[[ যেতে নাহি দিবো হায় তুব যেতে দিতে হয় তবু চলে যায় ]]]
আল্লাহ হাফেজ
_________________

" আজ সেই অমানিশা রাত্রি "

সায়মা ইতি
ভুলিনি আজো সেই ভুলের কালো অমানিশা রাত্রি
কত সন্তান মায়ের স্বপ্ন ভেঙেছে হাতে। ধরিত্রী,
হাহাকার হৃদরক্তে জল ঝরে মায়ের আকুল কাকুতি
মামনি আয়রে ফিরে আমার বুকে একটু মিনতি।।
তোর জন্য ঠিক। নয়রে, প্রয়োজনে শেষে মারবে ছুরি
পারবি নারে মারে, সহ্য করতে ছুড়েফেলার ফাঁদের কু-চক্রি
তুই আমার স্বপ্ন, একমাত্র সম্বল, যাসনে রেখে মাকে একাকী
বধির কর্ণ শোনেনি, দেয়নি সাড়া সেইদিন হৃদ পাষাণী !!
আগপাছ, সাতপ্যাঁচ না ভেবেই হাত দিয়েছিলেম বাড়ায়ে
জীবন তরী ভাসায়েছিলেম জানা অজানা মোহনায়ে,
সেজেছিলেম বঁধূর বেশে মায়ের চূর্ণ হৃদপিণ্ডে দাঁড়ায়ে
সুখের স্বর্গ গড়েছিলেম মনের মাধুরী মিশায়ে।।
স্বর্গসম মন্দির বানায়েছিনু তিল তিল করে
টুনিবৌ হয়ে এসেছিনু যবে তোমার ঘরে,
নিজো বীতস্পৃহার স্বপ্নগুলো করেছিনু দাফন কবরে
কিছুই তো অপূর্ণ রাখিনি তোমার তরে!!
পড়ন্ত বিকেলে পশ্চিম আকাশে হেলেছে রবি
সফেদা গাছটারো লেগেছে মরন ব্যধি,
গন্ধরাজ গাছটায় ফুলে নয় ছত্রাকে আছে ভরি
বাঁশের ঝাড়টাও মরে বিদীর্ণ ধূসর রঙে যাবে বুঝি পড়ি!!
ধানসিঁড়ি নদীটি আজ শুকিয়ে সেখানে বিলিন নীলপদ্ম
বাজপাখির ডাক নয়, যেন আগুনের পাখির চিৎকারের ভয়াল শব্দ
পাতাবাহারিলতা, সব গাছের পাতা সবইতো ছিলো অপরুপ স্বচ্ছ, সবুজ
সবই যে ছিলো মররচীকার ছল বুঝিনি, মনটা যে ছিলো অবুঝ!!
সাজিয়ে ছিলাম, রাঙিয়ে ছিলাম, পাথরেও ফুটিয়েছিলেম ফুল
গন্ধরাজ হাস্নাহেনা শেফালি বাহারি ফুলেফলে সবই কি ছিলো ভুল?
সকল কর্ম হয়ে গেলো কিভাবে ঘূণপোকার ধূল?
তাই দিতে হচ্ছে শত বছরের ভুলের মাশুল ?
বুনেছিলেম সত্যের সনে সংসার মিথ্যের কিছু মাধবীলতার
শতবছর পরে খুঁজতে থাকি গুঁটিটি কোথায় বিনে সুতার,
ভরা ছিলো কি সকলের মন বিষে ভরা ধুতরার?
বলেই দেখতে হাসিমুখে খেয়ে নিতেম নামে বিধাতার!!
কতযুগ বয়ে গেলো অবাক হয়ে দেখি পেছন ফিরে
কবে, কখন দুরারোগ্য বিষাক্ত জালে ফেঁসেছি ধীরে ধীরে,
বুনেছিলেম তোমার দেখা স্বপ্নগুলো,হারালাম সব কপটতার আঁধার ঘরে
আজি শেষের খেয়ায় কলঙ্কের মাল্যে সাজিয়ে বিদায় দিলে আস্তাকুড়ে !!
চাইনি কোনক্ষন টাকা কড়ি,স্বর্ন গহনা, বাড়ি গাড়ি
শুধুই বলেছিলেম হতে দিও না আমার সম্মানহানি,
কোন্ সিদ্ধির তরে করলে সাতকাহনের কলঙ্কিনী?
তবে কি সবই ছিলো সাজানো চোরা বালুচরের ঘূর্ণী ?
সেই ভুলের ঘোর অমানিশার আঁধারের তাণ্ডব রাগিনী,
সাজবো মেঘ বালিকার শুভ্রতার সফেদে এ দেহখানি,
ঘোর আঁধারেই প্রতিক্ষার প্রহরে শেষ রেখা দাও টানি
ওগো আসবে তুমি আমার মিনতি করোজোড়ে, ওগো অসীম অন্তরযামী!
আজ কি এসেছে সেই শেষের বিয়ের ফুল শয্যার রাতি?
বঁধূ বিদায় নিওগো আমায় হে প্রিয়রঞ্জন তোমায় মিনতি,
খাঁচা হতে দাও মুক্তি, মুক্তিই প্রাপ্তি
ক্ষমা করে করো আমায় সমাপ্তি!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন