বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

পয়েলা বৈশাখ সজল কুমার সরকার















পয়েলা বৈশাখ
সজল কুমার সরকার

তাক্ দুমা দুম ঢাকের তালে
নাচছে সবাই ঐ,
বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে
চলছে রে হৈ চৈ।


কেউ বা বাজায় বাংলা ঢোল আর
কেউ বা বাজায় কাসি,
ফুলুট,কর্ণেট ভেঁপু বাজে
বাজে তালের বাঁশি।

বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে
নতুন পোশাক পরে,
যায় মেলাতে কেউ বা হেঁটে
কেউ বা ঘাড়ে চড়ে।

মুখোশ পরে বাঘ সাজে কেউ
কেউ বা সাজে হাতি,
কেউ বা আবার মেলায় গিয়ে
করে সওদাপাতি।

বারো মাসে তেরো পার্বণ
বাংলার সংস্কৃতি,
পয়লা বৈশাখ আনে বয়ে
সাম্য সম্প্রীতি।

ধরণীর আসল রুপ কি তাই? মিলাদ খান




















ধরণীর আসল রুপ কি তাই?
মিলাদ খান

কেউ কি শুনতে পাই?
দেশের দরিদ্র মানুষের চিৎকার
ঘরে অনাহারের হাহাকার
পেলে দুমুঠো অন্ন
বাঁচবে প্রাণ হইবে ধন্য।

যারা করেছে বাড়ি গাড়ি
তাহারা সবাই তো কর্মচারী
রাষ্ট্রের প্রধান দেশের কর্মচারী
বিচার প্রধান আইনের কর্মচারী
মন্ত্রী প্রধান জনতার কর্মচারী
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী
সাধারণ মানুষের কর্মচারী
শিক্ষক মহদয় গণ
বিদ্যালয়ের কর্মচারী
বিক্রেতা ক্রেতার কর্মচারী
কৃষক ভূমির কর্মচারী।
কেনো আমাদের এই জ্ঞান
টুকু নাই?
শূন্য হাতে আসে মানুষ
শূন্য হাতে যায়,
যাবার বেলা কেউ কি
ধন সম্পদ সঙ্গে নিয়ে যায়?
তবে কেন আমরা
হই না সোচ্চার
মায়ের গর্ভেথেকে এসেছি যেমন
সবাই মিলে মিশে থাকি তেমন।
কেনো আপনার ঘরে খুশির মেলা
আমার ঘরে ক্ষুধার জ্বালা
ধরণীর আসল রুপ কি তাই?

লেখিকা সায়মা ইতি এর শেষ স্ট্যাটাস





















(( বি: দ্রব্যষ্ট কিছুদিনের জন্য সবার কাছ থেকে বিদায় নিবো তাই
একদিনে এতো গুলো পোষ্ট করলাম । )))
[[[ যেতে নাহি দিবো হায় তুব যেতে দিতে হয় তবু চলে যায় ]]]
আল্লাহ হাফেজ
_________________

" আজ সেই অমানিশা রাত্রি "

সায়মা ইতি
ভুলিনি আজো সেই ভুলের কালো অমানিশা রাত্রি
কত সন্তান মায়ের স্বপ্ন ভেঙেছে হাতে। ধরিত্রী,
হাহাকার হৃদরক্তে জল ঝরে মায়ের আকুল কাকুতি
মামনি আয়রে ফিরে আমার বুকে একটু মিনতি।।
তোর জন্য ঠিক। নয়রে, প্রয়োজনে শেষে মারবে ছুরি
পারবি নারে মারে, সহ্য করতে ছুড়েফেলার ফাঁদের কু-চক্রি
তুই আমার স্বপ্ন, একমাত্র সম্বল, যাসনে রেখে মাকে একাকী
বধির কর্ণ শোনেনি, দেয়নি সাড়া সেইদিন হৃদ পাষাণী !!
আগপাছ, সাতপ্যাঁচ না ভেবেই হাত দিয়েছিলেম বাড়ায়ে
জীবন তরী ভাসায়েছিলেম জানা অজানা মোহনায়ে,
সেজেছিলেম বঁধূর বেশে মায়ের চূর্ণ হৃদপিণ্ডে দাঁড়ায়ে
সুখের স্বর্গ গড়েছিলেম মনের মাধুরী মিশায়ে।।
স্বর্গসম মন্দির বানায়েছিনু তিল তিল করে
টুনিবৌ হয়ে এসেছিনু যবে তোমার ঘরে,
নিজো বীতস্পৃহার স্বপ্নগুলো করেছিনু দাফন কবরে
কিছুই তো অপূর্ণ রাখিনি তোমার তরে!!
পড়ন্ত বিকেলে পশ্চিম আকাশে হেলেছে রবি
সফেদা গাছটারো লেগেছে মরন ব্যধি,
গন্ধরাজ গাছটায় ফুলে নয় ছত্রাকে আছে ভরি
বাঁশের ঝাড়টাও মরে বিদীর্ণ ধূসর রঙে যাবে বুঝি পড়ি!!
ধানসিঁড়ি নদীটি আজ শুকিয়ে সেখানে বিলিন নীলপদ্ম
বাজপাখির ডাক নয়, যেন আগুনের পাখির চিৎকারের ভয়াল শব্দ
পাতাবাহারিলতা, সব গাছের পাতা সবইতো ছিলো অপরুপ স্বচ্ছ, সবুজ
সবই যে ছিলো মররচীকার ছল বুঝিনি, মনটা যে ছিলো অবুঝ!!
সাজিয়ে ছিলাম, রাঙিয়ে ছিলাম, পাথরেও ফুটিয়েছিলেম ফুল
গন্ধরাজ হাস্নাহেনা শেফালি বাহারি ফুলেফলে সবই কি ছিলো ভুল?
সকল কর্ম হয়ে গেলো কিভাবে ঘূণপোকার ধূল?
তাই দিতে হচ্ছে শত বছরের ভুলের মাশুল ?
বুনেছিলেম সত্যের সনে সংসার মিথ্যের কিছু মাধবীলতার
শতবছর পরে খুঁজতে থাকি গুঁটিটি কোথায় বিনে সুতার,
ভরা ছিলো কি সকলের মন বিষে ভরা ধুতরার?
বলেই দেখতে হাসিমুখে খেয়ে নিতেম নামে বিধাতার!!
কতযুগ বয়ে গেলো অবাক হয়ে দেখি পেছন ফিরে
কবে, কখন দুরারোগ্য বিষাক্ত জালে ফেঁসেছি ধীরে ধীরে,
বুনেছিলেম তোমার দেখা স্বপ্নগুলো,হারালাম সব কপটতার আঁধার ঘরে
আজি শেষের খেয়ায় কলঙ্কের মাল্যে সাজিয়ে বিদায় দিলে আস্তাকুড়ে !!
চাইনি কোনক্ষন টাকা কড়ি,স্বর্ন গহনা, বাড়ি গাড়ি
শুধুই বলেছিলেম হতে দিও না আমার সম্মানহানি,
কোন্ সিদ্ধির তরে করলে সাতকাহনের কলঙ্কিনী?
তবে কি সবই ছিলো সাজানো চোরা বালুচরের ঘূর্ণী ?
সেই ভুলের ঘোর অমানিশার আঁধারের তাণ্ডব রাগিনী,
সাজবো মেঘ বালিকার শুভ্রতার সফেদে এ দেহখানি,
ঘোর আঁধারেই প্রতিক্ষার প্রহরে শেষ রেখা দাও টানি
ওগো আসবে তুমি আমার মিনতি করোজোড়ে, ওগো অসীম অন্তরযামী!
আজ কি এসেছে সেই শেষের বিয়ের ফুল শয্যার রাতি?
বঁধূ বিদায় নিওগো আমায় হে প্রিয়রঞ্জন তোমায় মিনতি,
খাঁচা হতে দাও মুক্তি, মুক্তিই প্রাপ্তি
ক্ষমা করে করো আমায় সমাপ্তি!

নন্দিনী ফুল কবি নির্মলেন্দু গুণ





















নন্দিনী ফুল
কবি নির্মলেন্দু গু


আগে কোথাও কখনও দেখিনি-,
এমন একটা ফুল আমার ইনবক্সে পাঠিয়ে
নন্দিনী একটা নোট লিখেছে ফুলের তলায়--
"আপনি তো ফুল অনেক ভালোবাসেন,
অনেক ফুল দেখেছেন, অনেক ফুল চেনেন,
বলেন তো-- এটা কী ফুল?"

জানি, সময় নেবার মতো সময় আমার নেই।
তাই একটুও সময় না নিয়েই আমি বললাম,
"এই ফুল তুমি কোথায় পেলে?
এই ফুল তো শতবর্ষে একটা মেলে।
এর নামই তো নন্দিনী ফুল।"

নন্দিনী বললো, "না, সত্যি করে বলেন।"

আমি বললাম, "বাগান কি তার সবগুলি ফুল চেনে?
সত্য নামটা বলি যদি, তবেই হবে ভুল।"

নয়াগাঁও
২৭ মার্চ ২০১৭