মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ছড়াকার পলক রায় এর পরিচিতি


ছড়াকার পলক রায় এর পরিচিতি:-


















তরুণ, মেধাবী, আগামী সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র কবি ও ছড়াকার পলক রায়। সাহিত্য জগতে পলক রায় নামে পরিচিত হলেও কবির আসল নাম নেপাল চন্দ্র রায়। পিতা-অনিল চন্দ্র রায়। মাতা-শ্যামলা রাণী রায়। জন্ম : ১৮ অক্টোবর ১৯৯৪ সালে ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও থানার অর্ন্তগত শিবগঞ্জ ডাকঘরের সারালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবি তিন ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। কবি সারালী  ব্র্যাক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মাদারগঞ্জ এম.বি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি ২০১০ সালে পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ পেয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। উক্ত কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন ২০১২ সালে। বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ দ্বানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধিভুক্ত শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ এ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়নরত আছেন। তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’, ‘করতোয়া’, ‘সোনার দেশ’, ‘বাংলাদেশ সময়’, পূর্বদেশ ও কারেন্ট নিউজ পত্রিকায় এবং বাংলাদেশ বেতার ঢাকা, বাংলাদেশ বেতার খুলনা, বাংলাদেশ বেতার রংপুর এ অসংখ্য লেখা-কবিতা প্রচারিত হয়। তিনি একজন তরুণ কবি, লেখক, গীতিকার ও চিত্রশিল্পী। মনোমুদ্ধকর চিত্র অংকন করে অনেক পুরস্কার ও সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি অতি তীক্ষèতার তার সাথে লিখে চলেছেন। কবির লেখায় প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, অমর একুশ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা দিবস, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রতিক সময়ের বেদনাদায়ক ঘটনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কে নিয়ে বিভিন্ন কবিতা, জঙ্গিবাদ। প্রকাশিত লেখা : (১) গল্প : তেলা ভূত (প্রথম আলো), (২) কবিতা : শৈশব মানে (কারেন্ট নিউজ)। প্রকাশিত যৌথকাব্যগ্রন্থ “কাশফুল”। সম্পাদিত যৌথকাব্যগ্রন্থ “সবুজের বুকে লাল”, “বিজয় নিশান”, “বাংলা আমার জন্মভূমি”, “তারুণ্যের অঙ্গীকার”, “জেগে ওঠো বাংলাদেশ”, “আঘাত”। শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ:- “ফুল-পাপড়ি” । গল্পগ্রন্থ“গল্পের সিঁড়ি” ।

সম্মাননাঃ- কাব্যচন্দ্রিকা শিশু সাহিত্য পদক-২০১৭।

সতর্ক-সংকেত অসীম সাহা

সতর্ক-সংকেত
অসীম সাহা

তুমি সেই দুর্বিনীত বাতাসকে বলো, যে আমাকে কেবলি
পশ্চিমের দিকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়;
তাকে বলো, এই শরীর কোনো হালকা তুলোর আবরণ নয় যে,
ইচ্ছে হলেই তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে সুদূর আকাশে।
আমি জানি, ঐ দুরন্ত বাতাস আমাকে এক ঝাপটায়
উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরে;
হয়তো তাতেই আমার চিরকালের উপশম।
তবু তুমি ঐ দুর্বিনীত বাতাসকে প্ররোচিত করো না,
আমাকে তুমি একটু-একটু করে বুঝতে দাও- মাতৃস্তন্যের চাইতে
মধুরতম আর কিছুই নেই।
মৃত্তিকার শেকড় থেকে উপড়ে ফেলে আমাকে তুমি পুঁতে দিয়ো না
অন্য কোনো সোনালি টবে-
তাতে আমার মুক্তি নেই- সত্যিই কি মুক্তি নেই আমার?
ডুবন্ত মানুষ যেমন করে গভীর নদীতে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে
বেঁচে থাকতে চায়,
আমার এই দেহের খোলশ নিয়ে হয়তো-বা সে-রকমই বেঁচে আছি আমি!
শুধু তুমি দুর্বিনীত বাতাসকে বলো- সে যেন
পশ্চিম নদীতীরে উড়িয়ে নেবার আগেই
আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বঙ্গোপসাগরে;
যদি সেখান থেকে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যাই অন্য কোনো প্রার্থিত বন্দরে,
তা হলে আমার শেষ পরিণামের জন্যে আমি কাউকে দায়ী করবো না।
তবে আমার ভেজা দেহের পরতে-পরতে জমে থাকা ঘৃণার বুদ্বুদ
যদি কখনো উপচে পড়ে অচেনা মাটিতে,
আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় কোনো সুপ্ত আগ্নেয়গিরি-
তার জন্যে তোমরা আমাকে অভিশাপ দিও না।
কেননা যার নিজের দেহের ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই,
অন্য কোনো অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের জন্যে
তাকে তোমরা কিছুতেই দায়ী করতে পারো না।